অনেক কিছুই করা যায় ইউটিউবে, হয়তো আপনি জানেন না

যখন ভিডিও দেখা বা শেয়ারিং এর বিষয় আসে, তখন ইউটিউবই মানুষের প্রথম পছন্দ। লাখ লাখ মানুষ ইউটিউবের পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করেন। গুগলও এর দেখভাল করে চলেছে। প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো ফিচার এতে যোগ করা হচ্ছে আরো উন্নত সেবা দিতে। একে উপভোগ্যও করে তোলা হচ্ছে। এখানে জেনে নিন, ইউটিউবের এমন কিছু দারুণ অপশনের কথা, যা আগে হয়তো শোনেননি।

১. ভিডিও থেকে জিআইএফ
ইউটিউব ভিডিও থেকে অ্যানিমেটেড জিআইএফ তৈরি করা যাবে সহজেই। একটা ইউটিউব ভিডিও বের করুন। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে চলে যান। সেখানে ইউটিউবের আগে ‘জিআইএফ’ লিখে দিন। অর্থাৎ লেখা হবে ‘জিআইএফ ইউটিউব ডট কম। এই ঠিকানা আপনাকে আরেকটি পেজে নিয়ে যাবে। সেখান থেকে ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওকে জিআইএফ বানাতে পারবেন।

২. নির্দিষ্ট সময় থেকে প্লেব্যাক
এমনভাবে ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন যা একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু হবে। শেয়ারিংয়ের সময় ‘স্টার্ট অ্যাট’ বক্সটি দেখুন। এখানে সময় বেঁধে দিন।

৩. কারাওক ইউটিউব
ইউটিউব দারুণ এক কারাওক। সেখানে অনেক গান রয়েছে যা কেবল গানের কথা ও সাবটাইটেল সহ রয়েছে। ইউটিউবের সার্চ বারে কারাওক সার্চ দিলে এগুলো পেয়ে যাবেন। টিভির সঙ্গে আপনার ফোন বা ল্যাপটপ যোগ করতে পারবেন। বাইরে একটি স্পিকার ও মাইক্রোফোন যোগ করতে পারবেন। যদি এখানে গানের কথা ভালোমতো না দেওয়া থাকে, তবে ইউটিউব লিরিক্স-এ মিলে যাবে।

৪. টিভি মোড
ইউটিউবে রয়েছে ফুল স্ক্রিন টিভি মোড। টেলিভিশনের মতো দূরে বসে কোনো ভিডিও দেখতে চাইলে এই মোডটি ব্যবহার করতে পারেন। ব্রাউজারে http:www.youtube.comtv কথাটি লিখে টিভি মোড চালু করুন। এই মোডটি সহজেই কিবোর্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তা ছাড়া গাঢ় রংয়ের থিম বেছে নিতে পারেন। ফলে দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে। ভিডিও খুঁজতে পারবেন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে।

৫. আইডেন্টিফাই ব্যাকগ্রাউন্ড
অনেক ভিডিও রয়েছে যা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে। আপনি কি কখনো সেই মিউজিক বা গায়ক বা ব্যান্ডের নাম কি তা ভেবেছেন? এমনিতে ইউটিউব এই ফিচারটি দেয় না। কিন্তু আপনি যদি http:www.mooma.sh ঠিকানায় যান, তবে ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাক শনাক্ত করতে পারবেন। ইউটিউবের ওই ভিডিও লিঙ্কটি কপি করে ওয়েবসাইটের পেস্ট করুন। মুমা ওয়েবসাইটটি লাখ লাখ গানের তালিকা স্ক্যান করে ব্যাকগ্রাউন্ডের মিউজিকটি বের করে আনবে।

৬. ম্যাজিক অ্যাকশন
ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি ফিচার সমৃদ্ধ ব্রাউজার ম্যাজিক অ্যাকশন। একবার এই এক্সটেনশন যোগ করলে একটি সেটিংস পেজ খুলে যাবে যেখানে অনেগুলো আকর্ষণীয় ফিচার চালু করতে পারবেন। মাউসের স্ক্রল হুইলের ব্যবহারে সাউন্ড বাড়ানো-কমানো, ফোর্স এইচডি বা ৪কে ভিডিও প্লেব্যাক, হাইড অ্যাড, বাইপাস কান্ট্রি রেসট্রিকশন, সিনেমা মোড চালু করা ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন।

৭. কিবোর্ড শর্টকাট
ভিডিও দেখার সময় কিবোর্ডের ব্যবহার করতে পারেন। বাম ও ডানের অ্যারো কি ব্যবহার করে ৫ সেকেন্ড পেছনে বা সামনের দিকে যেতে পারেন। ‘কে’ ব্যবহার করে পজ বা প্লে করতে পারেন। ‘জে’ এবং ‘আই’ ব্যবহার করে ভিডিওর ১০ সেকেন্ড আগে বা পরে যেতে পারেন।

৮. ভিডিও ৩৬০ ডিগ্রি
ইউটিউবে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও তৈরি করা অতি সাধারণ বিষয়। গুগল কার্ডবোর্ডের মতো সাধারণ মানের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটের মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও তৈরি করা যায়। এ ছাড়াও আরো ক্যামেরা রয়েছে যার মাধ্যমে এই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তবে এসব ভিডিও আপলোড করা সাধারণ বিষয় নয়। এ কাজটি করতে হলে আপনার প্রথমেই ৩৬০ ভিডিও মেটাডেটা অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। এটি পাবেন http:www.github.com ঠিকানায়। গুগল স্পেশাল মিডিয়া রিলিজ ইউন্ডোজ এবং ম্যাকের জন্য রয়েছে। কম্পিউটার থেকে অ্যাপে গিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি খুলে নিন এবং সেখান থেকে ‘স্ফেরিক্যাল’ বক্সটি চিহ্নিত করুন। ভিডিওটি কম্পিউটারে সেভ করুন এবং ইউটিউবে আপলোড দিন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *